বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। একই সঙ্গে নতুন একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সভাপতি করা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এনএসসির গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি বিসিবির সদ্য বিলুপ্ত সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে সরাসরি ১৮টি অভিযোগ উত্থাপন করে। তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এ পাঠানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনএসসি।
এনএসসি সূত্রে জানা গেছে, বিসিবির কার্যক্রম সচল রাখতে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি অস্থায়ীভাবে বোর্ড পরিচালনা করবে এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হলে বা সংস্থার স্বার্থবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করলে এনএসসি সেই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন অ্যাডহক কমিটি নিয়োগ করতে পারে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলো হলো—
- কাউন্সিলর তালিকা জমার সময়সীমা অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি
- নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনয়নের জন্য চাপ প্রয়োগ
- অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি
- নির্ধারিত সময়ের পরে ভোটার তালিকা প্রকাশ
- নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ
- ই-ভোটিং সিস্টেমের অপব্যবহার ও কারচুপির অভিযোগ
- নির্দিষ্ট প্রার্থীদের অনৈতিক সুবিধা প্রদান
- ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা
- বিসিবি সংবিধানের একাধিক লঙ্ঘন
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপেও নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বুলবুল একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
তদন্ত কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ঘাটতি ছিল এবং বিসিবির সাংগঠনিক কাঠামো ও সংবিধান একাধিকবার লঙ্ঘিত হয়েছে।
এনএসসি জানিয়েছে, নতুন অ্যাডহক কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিসিবির কার্যক্রম পুনর্গঠন এবং স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করবে।
