রমজান মানেই ইফতারের আগে এক অদ্ভুত অপেক্ষা—আর সেই অপেক্ষাকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে নতুন এক প্রযুক্তি আইডিয়া। কল্পনা করুন, আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনই বলে দিচ্ছে আজ কোন মসজিদে ইফতারে বিরিয়ানি বা তেহারি দেওয়া হচ্ছে! ঠিক এমনটাই সম্ভব করে দেখিয়েছে একটি অভিনব অ্যাপ—যার নাম “বিরিয়ানি দিবে”।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমরা প্রতিদিন অসংখ্য অ্যাপ ব্যবহার করছি। ট্রাফিক আপডেট, খাবার অর্ডার, সোশ্যাল মিডিয়া—সবই এখন হাতের মুঠোয়। কিন্তু ধর্মীয় ও সামাজিক অভ্যাসের সঙ্গে প্রযুক্তির এমন মজার মেলবন্ধন খুব কমই দেখা যায়। “বিরিয়ানি দিবে” অ্যাপটি ঠিক সেই জায়গাটিতেই নতুনত্ব এনেছে। রমজান মাসে ইফতারের সময় কোন মসজিদে বিরিয়ানি বা তেহারি পরিবেশন করা হবে—সেটি এখন রিয়েল-টাইম আপডেটের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে এই অ্যাপের সাহায্যে।
এই আইডিয়ার পেছনে রয়েছেন এক তরুণ উদ্ভাবক—আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের প্রিন্স। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করছেন। প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণে তিনি তৈরি করেছেন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যা একদিকে যেমন উপকারী, অন্যদিকে তেমনি মজাদারও। তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
রমজান এলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মসজিদের ইফতার নিয়ে নানা ধরনের পোস্ট, মিম ও হাস্যরসাত্মক কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে মসজিদে দেওয়া বিরিয়ানি বা তেহারিকে কেন্দ্র করে থাকে বাড়তি আগ্রহ। অনেকেই বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে বলেন—“কোথায় আজ ভালো ইফতার পাওয়া যাবে?” সেই মজার কথাকেই বাস্তব সমাধানে রূপ দিয়েছেন এই তরুণ অ্যাপ ডেভেলপার।
অ্যাপটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হলো—লাইভ লোকেশন আপডেট। ব্যবহারকারীরা সরাসরি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখতে পারবেন, তাদের আশেপাশে কোন মসজিদে আজ কী ধরনের ইফতার দেওয়া হচ্ছে। শুধু দেখাই নয়, যে কেউ চাইলে নিজের এলাকার মসজিদের তথ্যও যুক্ত করতে পারবেন। অর্থাৎ এটি একটি কমিউনিটি-ড্রিভেন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সবাই মিলে তথ্য শেয়ার করে অন্যদের উপকার করতে পারছেন।
ফলে একজন ব্যবহারকারী খুব সহজেই পরিকল্পনা করতে পারেন—আজ কোথায় গিয়ে ইফতার করবেন। বিশেষ করে যারা শহরে একা থাকেন, ছাত্রাবাসে থাকেন বা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি দারুণ সহায়ক টুল। একইসঙ্গে এটি সামাজিক সংযোগও বাড়ায়, কারণ মানুষ একে অপরের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করে উপকৃত হচ্ছেন।
“বিরিয়ানি দিবে” অ্যাপটি প্রমাণ করে দিয়েছে—প্রযুক্তি শুধু কাজের সুবিধার জন্য নয়, আনন্দ, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। একটি সাধারণ আইডিয়াকে কীভাবে বাস্তব প্রয়োগে এনে মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তারই একটি চমৎকার উদাহরণ এই অ্যাপ।
রমজানের ইফতারকে ঘিরে এই নতুন ডিজিটাল ট্রেন্ড এখন সবার মুখে মুখে। ভবিষ্যতে এমন আরও উদ্ভাবনী উদ্যোগ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করবে—এটাই প্রত্যাশা।
